“হেসেখেলে সময় কাটালে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বড় ক্ষতি হবে”: নেতাকর্মীদের তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

0
"হেসেখেলে সময় কাটালে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বড় ক্ষতি হবে": নেতাকর্মীদের তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়; জিয়ার আদর্শে দেশ গড়ার ডাক বিএনপি চেয়ারপারসনের

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজনীতি ও দেশের অগ্রযাত্রায় সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সন্ধিক্ষণে সামান্যতম অবহেলা বা হেসেখেলে সময় পার করলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

একটি সুনির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ ও ইশতেহার নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের সামনে যে উন্নয়ন ও সংস্কারের ইশতেহার তুলে ধরেছিলাম, দেশের মানুষ তা গ্রহণ করেছে। মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে সেই ম্যানিফেস্টো বা অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের জন্যই। জনগণের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে ‘জিয়া’ ও ‘বাংলাদেশ’ সমার্থক হয়ে উঠেছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঠিক সেই পথই অনুসরণ করতে হবে।

দেশে চলমান সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নতুন প্রজন্মের মাঝে নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় দলের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভায় বক্তারা শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি ও দেশের অর্থনীতি-রাজনীতিতে তার কালজয়ী অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শই সংকটে বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।”

আলোচনা সভায় দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়াও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।