
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো এক নতুন জাতীয় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের স্মারকরূপে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে সেখানে সংরক্ষিত বিরল আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক স্মারক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পরিদর্শন করেন অতিথিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, এই জাদুঘর কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ছিল সেই অর্জনকে টিকিয়ে রাখার লড়াই। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতি যেভাবে মনে রেখেছে, ২০২৪-এর শহীদদের আত্মত্যাগও জাতীয় স্মৃতিতে চির অম্লান থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থেকে জাতীয় এই উদ্যোগের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ঘোষিত মূল প্রতিশ্রুতি ও নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ:
বিগত ১৭ বছরের শাসন আমল এবং জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত প্রতিটি গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সরকারপ্রধান।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদ ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকায় সরকারি বা স্থানীয় যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিতাড়িত একনায়কতন্ত্রের অপশাসন ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে সত্যকে দৃশ্যমান করাই এই জাদুঘরের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার বর্গসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দেশে আইনের শাসন পুনপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
