কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোসহ তিন শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর স্থগিত থাকছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান এবং বাংলাদেশি নেতাদের হত্যা মামলার আসামিদের ভারতে আশ্রয়ের প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় এই সফরের পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা।
রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যে সফরের “অনুকূল পরিবেশ” বিনষ্ট হয়েছে।
সফরের আগে ঢাকার প্রধান ৩ শর্ত
শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যর্পণ: দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের আসামিদের হস্তান্তর: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা ভারতে অবস্থান করায় তাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে।
কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি: দিল্লির মাটিতে বসে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-বিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
আগামী আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ভারতীয় গণমাধ্যম। লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির পাঠানো দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণ এবং আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ রয়েছে।
সরকারের স্পষ্ট বার্তা— সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা ও একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে যৌথ সম্পর্ক এগোবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের কাছে এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। দিল্লির ইতিবাচক সাড়া ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ছাড়া এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

