বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশের বিভিন্ন কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ২,২৪৭ জন বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, পলাতক বন্দিদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো ডাটা বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যই খুঁজে পাচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারস্থ কারা অধিদপ্তরে সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা ও কারা প্রশাসনের সার্বিক আধুনিকায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল ৮২৬ জন বন্দি। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন বন্দির প্রাতিষ্ঠানিক ডেটা বা বিস্তারিত তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। কারাগার ভেঙে মোট ৯ জন চিহ্নিত জঙ্গি সদস্য পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩ জন জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গিদের আলাদা করে নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২৪ জুন থেকে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্যাশলেস’ কারাগার হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অনৈতিক লেনদেন হ্রাস পেয়েছে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কারাগারেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে ১,৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে এবং আরও ১,৫০০টি পদের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রক্সি ও অনিয়ম রুখতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বন্দি চাপ কমাতে ও আধুনিক সংশোধনমূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতোমধ্যে ২-টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৮-টি নতুন জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক জোর দিয়ে বলেন, শুধু বন্দিদের আটকে রাখা নয়; নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দিদের পুনর্বাসন এবং আধুনিক সংশোধনমূলক সেবা গড়ে তোলাই এখন কারা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

