
জয়নাল আবেদীনঃ রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি কৃষি প্রণোদনা বণ্টন ও তালিকা তৈরিতে চরম অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সার, উন্নত জাতের বীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ও নিয়মিত চাষিরা সুবিধাবঞ্চিত হলেও, জমি চাষাবাদ করেন না এমন ব্যক্তিরা প্রণোদনার সুবিধাভোগী তালিকায় স্থান পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা জমিতে চাষ না করেও তালিকায় নাম তুলে নিচ্ছেন। অন্যদিকে তিস্তার চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বছরের পর বছর ধরে কৃষি কাজ করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যে সরকারি এই সহায়তা জুটছে না।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলের ক্ষতি হলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ফলে প্রকৃত কৃষকদের সার্বিক সমস্যা ও চাহিদা সঠিকভাবে যাচাই না করেই প্রণোদনার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিকাশ চন্দ্র রায় (৪৫), কোলকোন্দ ইউনিয়ন (৭ নং ওয়ার্ড) তিনি তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। তিস্তার চরে বন্যা ও নদী ভাঙনে প্রায়ই তার ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোনো সরকারি প্রণোদনা পাননি। কোলকোন্দ ইউনিয়নের দুলাল মিয়া (৫৮), নিয়মিত চাষাবাদ করার পরও সরকারি সার ও বীজের মতো মৌলিক প্রণোদনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলমবিদিতর ইউনিয়নের সামসুল (৫০), ১০ বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করলেও কোনোদিন সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, এলাকার প্রকৃত ও অভাবী কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী বা পরিচিত ব্যক্তিদের সুবিধা দিতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা বিতরণের বিদ্যমান তালিকা অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভূয়া বা অকৃষকদের কীভাবে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন তারা।
প্রণোদনা বণ্টনে অনিয়মের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেইন বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে জানান, “যেসব কৃষক প্রণোদনা পাননি, তারা সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।”
