বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মী দিয়ে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনুমোদন পেল ৩৩৮ এজেন্সি

0
বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মী দিয়ে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: অনুমোদন পেল ৩৩৮ এজেন্সি

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও টানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে স্বচ্ছতা ও নতুন শর্তে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রথম ধাপে কোনো প্রকার অভিবাসন খরচ ছাড়াই (জিরো কস্ট) সরকারিভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেবে দেশটি। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এদের পাঠানো হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার আগে কর্মীপ্রত্যাশীরা যেন কারো সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন বা পাসপোর্ট জমা না দেন।

২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সি নির্বাচনের একক এখতিয়ার ছিল মালয়েশিয়া সরকারের ওপর। এতে পূর্বে সীমিত সংখ্যক এজেন্সির সিন্ডিকেট গড়ে উঠলেও এবার বাংলাদেশের অনুরোধে তা প্রসারিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এজেন্সি মনোনয়নে বাংলাদেশের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিগত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও বিতর্কিত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে বাদ দিয়ে আপাতত মালয়েশিয়া অনুমোদিত পূর্বের ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে। দ্রুতই মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে পরিদর্শনের পর মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করবে।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দরে যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধ করা। সরাসরি কোম্পানিতে যোগদান, নিয়মিত বেতন-ভাতা, উন্নত আবাসন ও চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করা। প্রতারণা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে একটি ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন।

শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র যেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সুনির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এর আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা, মেডিকেল টেস্ট করানো বা কারো কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই বাজারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের গতি আসবে বলে আশা করছে সরকার।