
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অর্ধশত বছরের পুরোনো ও সুবিধাবঞ্চিতদের সেবাদানকারী বেসরকারি সংস্থা ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেড় কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটের ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঘটনায় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম এলেও, লিখিত অভিযোগ পেলে তাকেসহ জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ধংসস্তূপে পরিণত হওয়া ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান ডিএমপি প্রধান।
ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধীর কোনো দল, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই। দখলদারত্ব বা যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্তদের আমরা কেবল অপরাধী হিসেবেই দেখব।” তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান এজাহারনামীয় আসামি হানিফ মিয়াসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
থানার মাত্র ১ কিলোমিটারের মধ্যে ঘণ্টা ধরে ভারী সরঞ্জাম ও ট্রাক এনে এমন ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিদর্শনের পর ডিএমপি কমিশনার স্বীকার করেন, “এ ধরনের জনাচ্ছন্ন জায়গায় এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, যা আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়। ল্যাব সরঞ্জামের মতো মূল্যবান সামগ্রী লুটে সময় লেগেছে।”
ঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশের কোনো অবহেলা বা নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তা তদন্তে এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপি প্রধান হুঁশিয়ারি দেন, কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশের কারো গাফিলতি বা আস্কারা দেওয়ার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলাকারীদের তান্ডবে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় দরিদ্র ও প্রসূতি মায়েরা। রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, ২৫০ জনের একদল মুখোশধারী ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’র ব্যানারে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে তাণ্ডব চালায়।
হামলায় একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি ইপিআই টিকা, রেজিস্টার, পরিবার পরিকল্পনার উপকরণ, নগদ ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৪৫ লাখ টাকার আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, ল্যাব সরঞ্জাম এবং কম্পিউটারসহ অন্তত দেড় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নারীদের বিনামূল্যে প্রাথমিক ও প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। রোববার থেকে পরিকল্পিত সরকারি ‘হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন’সহ ক্লিনিকটির সমস্ত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি পুনর্বাসন করে দরিদ্র মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।
