
বাংলাদেশ প্রতিবেদক: রাজধানীর রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও যানজট বাড়াতে অটোরিকশা চালক ও হকারদের গোপনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। একই সাথে অটোরিকশা চলাচলের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের নাম উল্লেখ না করে তাঁর মালিকানায় শত শত অবৈধ যান থাকার বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত ‘গ্রাফিতি রিমেক’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
রাজধানীতে সম্প্রতি অটোরিকশা চলাচল কেন্দ্রিক আন্দোলন ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একজন সচেতন নাগরিকও নেই যিনি ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচলের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের পক্ষে আন্দোলন করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলছেন যে অটোরিকশা চলাচলের দাবি নাকি সরকারের মেনে নেওয়া উচিত! বিষয়টি যেমন হাস্যকর, তেমনই রহস্যজনক।”
প্রশাসক মিল্টন আরও দাবি করেন, “পরবর্তীতে আমাদের গোয়েন্দা সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই রাজনৈতিক নেতার নিজস্ব মালিকানাতেই প্রায় ৭০০ অটোরিকশা রাস্তায় চলত। নিজ পকেটের বাণিজ্য ও কায়েমি স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যানবাহনের পক্ষ নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।”
নগরীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হকার ও রিকশাচালকদের উসকে দিয়ে রাজধানী ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করার এক সুগভীর চক্রান্ত চলছে। তবে সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো মূল্যে নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং এই ধরনের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
মেট্রোরেলের সৌন্দর্য বর্ধন ও নগর সৌন্দর্যায়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক মিল্টন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবের মহান স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে উত্তর সিটি করপোরেশন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, মাত্র ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে মেট্রোরেলের পিলারগুলো থেকে যাবতীয় অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করে সেখানে ছাত্র-জনতার গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ ঠাঁই পাবে না; বরং দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রক্ত ও ঘাম ঝরিয়ে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বীরত্বগাঁথা ছবি ও উক্তিই প্রাধান্য পাবে।
এ ছাড়া নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে রাজধানীর ক্ষতিগ্রস্ত ও দখল হওয়া ফুটপাতগুলো দ্রুত সংস্কার করে আধুনিক, পথচারী-বান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করার কাজের ঘোষণা দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
