বাংলাদেশ প্রতিবেদক: রাজধানীতে সম্প্রতি অবৈধ ও বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ঢাকার রাজপথে হঠাৎ অটোরিকশার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্তের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাই ছদ্মবেশে রিকশাচালক সেজে সড়ক অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি’র অষ্টম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “রাজধানীর রাজপথে বর্তমানে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচলের যে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সাধারণ পরিবহন সমস্যা নয়। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখন কৌশল বদলে রিকশাচালক সেজে মাঠে নেমেছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।”
এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে সরকার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলায় আনায় যদি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সব ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নিবে।
জাতীয় রাজনীতির গুণগত মান ও শিষ্টাচার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাজনীতিতে এক ধরণের অশালীনতার চর্চা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে জয়ী হওয়া একটি দলের দায়িত্বশীল নেতারা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। সুস্থ ও গণতান্ত্রিক চর্চার স্বার্থে এ ধরনের রাজনৈতিক অশালীনতা থেকে তাদের অনতিবিলম্বে বেরিয়ে আসা উচিত।”
মাত্র ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে বিরোধী দলগুলোর ঘনঘন কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বিরোধী দল ইতোমধ্যে দুটি লংমার্চ সম্পন্ন করেছে এবং আবারও নাকি নতুন করে লংমার্চ করার হুংকার দিচ্ছে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক লংমার্চ আহ্বান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সামিল।”
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী—জাতীয় জীবন যখনই গভীর সংকটে পড়েছে, তখনই দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্র থমকে দাঁড়িয়েছে। আর প্রতিটি জাতীয় সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপিই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে দেশকে সেই সংকট থেকে টেনে উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিএনপি সমর্থিত সরকার সারাদেশজুড়ে আইনের শাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ, দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

