চকবাজারে ভয়াবহ আগুন: ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, পার্শ্ববর্তী ভবনে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

0
চকবাজারে মনজুর খান প্লাজায় ভয়াবহ আগুন: ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, পার্শ্ববর্তী ভবনে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটাওয়া এলাকায় অবস্থিত মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সরু গলি, তীব্র ধোঁয়া, পানির সংকট এবং গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নেভাতে চরম লড়াই করতে হচ্ছে। এমনকি আগুনের তীব্রতা বাড়ায় তা পার্শ্ববর্তী ভবনেও ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২ মিনিটে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের ছয়তলার একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর ৫টা ৪ মিনিটে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিটগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যে—অর্থাৎ বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নির্বাপণ কাজ শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ৫টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ইউনিট বাড়িয়ে মোট ১০টি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে ও তা আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্যমতে, বেশ কিছু জটিল সংকটের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যাহত হচ্ছে । পুরান ঢাকার ঐতিহ্যগত জনবহুল ও সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের ভারী ও বড় গাড়িগুলো সরাসরি আগুন লাগা ভবনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে দূর থেকে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ভবনটির ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের একাধিক গুদাম রয়েছে। গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় ফায়ার কর্মীদের তালা ভেঙে বা সাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবনের ভেতরে প্রচুর প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু থাকায় কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভেতরে দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত জলাধার বা হাইড্র্যান্টের অভাবে নির্বাপণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় এবং তীব্র তাপমাত্রার কারণে মনজুর খান প্লাজার আগুন পাশের একটি ভবনেও কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে মার্কেট ও গুদামগুলো পুড়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকার চকবাজারের রহমতগঞ্জ এলাকার ডালপট্টিতে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব বাণিজ্যিক গুদাম ও মার্কেটে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।