নতুন মজুরি নির্ধারণে একমত তিন পক্ষ: জানুয়ারি থেকে কার্যকর, বৃহস্পতিবার থেকেই কাজে ফেরার আহ্বান

0
নতুন মজুরি নির্ধারণে একমত তিন পক্ষ: জানুয়ারি থেকে কার্যকর, বৃহস্পতিবার থেকেই কাজে ফেরার আহ্বান

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ তৈরি পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে সরকার, পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্বিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই সেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে গঠিত নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন সব পক্ষের প্রতিনিধিরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধি, মালিক সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির দ্রুত সুরাহা করা এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপসমূহ: পূর্বে প্রতি পাঁচ বছর পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার মাত্র তিন বছরের মাথায় নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড গঠনের মাত্র চার দিনের মধ্যে দুটি সভা আয়োজনের উদ্যোগ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের পরিচয় দেয়।

আলোচনা চলার সময় কোনো ধরনের কারখানা ভাঙচুর বা উৎপাদন বন্ধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মালিকদের অবিলম্বে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার এবং শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্দোলন চলাকালে প্রাণ হারানো শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে সহিংসতায় জড়িত বহিরাগত উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত হাসপাতাল: গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাকশ্রমিকদের চিকিৎসার সুবিধার্থে একটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যার কাজ এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের সব যৌক্তিক দাবি সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বোর্ডে উত্থাপিত হয়েছে। অতীতে দাবি নিষ্পত্তিতে তিন-চার বছর সময় লাগলেও এবার দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের রাস্তাঘাট অবরোধ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে লিখিতভাবে দাবি জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এতে শ্রমিক, মালিক ও দেশ—সবার স্বার্থ রক্ষা পাবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগতরা ঢুকে উসকানি ও নাশকতা ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে।”

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মজুরি বোর্ডের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেন, “শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকদের সব সংকটের সমাধান হয় না; মজুরি বাড়লে বাড়িওয়ালারাও ভাড়াবৃদ্ধি করে দেন। তাই মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমঘন এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ রেশন সুবিধা ও আবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার ও মন্টু ঘোষ কারখানা চালু রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। নাজমা আক্তার বলেন, “তৈরি পোশাকশিল্প সম্পূর্ণ বিদেশি ক্রয়াদেশের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারলে শিল্পের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের লিখিত দাবি বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হবে।”