ঈশ্বরদীতে চার বছরের সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ: ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা

0
ঈশ্বরদীতে চার বছরের সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ: ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে অবুঝ শিশুসন্তানকে ধারালো অস্ত্রের মুখে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। সম্পর্কে ওই নারীর নিজ ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের একটি হলুদ ক্ষেতের আড়ালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে জীবিকার সন্ধানে গৃহবধূর স্বামী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি ত্যাগ করেন। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঘটনার দিন দুপুরে ওই গৃহবধূ এক প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মাঠে ছাগল চরাতে যান।

পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে লম্পট শিবলু মৃধা মাঠের মধ্যে ওই গৃহবধূর কাছে গিয়ে মিথ্যা ও আতঙ্কজনক তথ্য দেয়। সে জানায়, গৃহবধূর চার বছর বয়সী ছোট ছেলের কোমরের নিচের অংশ কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সন্তানের দুর্ঘটনার আকস্মিক সংবাদ শুনে মা হিসেবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই গৃহবধূ দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটতে শুরু করেন।

লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, বাড়ি ফেরার পথে ফাঁকা মাঠের মধ্যপাড়া এলাকায় হায়দার আলী নামের এক ব্যক্তির হলুদ ক্ষেতের কাছাকাছি পৌঁছানোমাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা শিবলু মৃধা তার গতিরোধ করে। এ সময় সে হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া (কাস্তে) উঁচিয়ে ধরে এবং চিৎকার করলে চোখের সামনে চার বছরের সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ভয় দেখায়। সেই ভয় ও পৈশাচিক হুমকির মুখে অসহায় মা চরম জিম্মি হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্ত শিবলু তাকে জোরপূর্বক ওই হলুদ ক্ষেতের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার আকস্মিকতা ও চরম মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার পর ভুক্তভোগী নারী তৎক্ষণাৎ অভিযুক্তের মা ও বোনকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দূরে কর্মস্থলে থাকা স্বামীকেও পুরো বিষয়টি জানান। সংবাদ পেয়ে স্বামী মেহেরপুর থেকে দ্রুত নিজ বাড়িতে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে রাতেই ঈশ্বরদী থানায় এসে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে এক ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে তার ওপর ঘটিত পৈশাচিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ওসি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত শিবলু মৃধাকে দ্রুত গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি, আইনি প্রক্রিয়া ও প্রোটোকল অনুযায়ী ভুক্তভোগী গৃহবধূকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি (শারীরিক) পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।