নাগরিক সেবায় হয়রানি বরদাশত নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

0
নাগরিক সেবায় হয়রানি বরদাশত নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা হয়রানির শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতাকে আধুনিক জনসেবার প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি দপ্তরে আসা সেবাগ্রহীতাদের শুধু আইনের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না, তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তাকে স্রেফ ফিরিয়ে না দিয়ে, কোথায় এবং কীভাবে ভুল সংশোধন করতে হবে—সে বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াকে কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা স্বাভাবিক, তবে তার প্রকাশ ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, কোনো সরকারি অফিসে নয়। পদোন্নতি বা পছন্দের পদায়নের জন্য পেশাগত সততার সঙ্গে আপস না করে দেশের যেকোনো প্রান্তে সেবা দিতে প্রস্তুত থাকাকেই তিনি প্রকৃত পেশাদারিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ে নির্ধারিত নির্বাচনী ইশতেহারকে ‘জনগণের দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সরকারি কাজে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে প্রশাসনিক সেবাকে দ্রুত, সহজ ও ডিজিটালি নাগরিকবান্ধব করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তব্যে চারপাশের পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফিস-আদালত ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ রেখে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা শীর্ষ ১০ জন নবীন ক্যাডার কর্মকর্তার হাতে মেধা সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের একাডেমিক জ্ঞানের সফল ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটিয়ে জনপ্রশাসনের মূল লক্ষ্য—‘জনসেবা’ সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।