জয়নাল আবেদীনঃ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের রক্তঋণ শোধ করতে এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে আবারও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা ও মোনাজাত
নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ডা. শফিকুর রহমান আজ সকালে বাবনপুর গ্রামে পৌঁছান। সেখানে শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ মোনাজাত করেন তিনি। এসময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাতে জামায়াত আমির বলেন, “আবু সাঈদ বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আল্লাহ যেন তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং ঘরে ঘরে তার মতো বিপ্লবী যুবক তৈরি করে দেন।”
তরুণদের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ
জিয়ারত শেষে স্থানীয় যুবকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের বিপ্লব এখনো শেষ হয়নি। ভোটের অধিকার রক্ষা এবং দুর্বৃত্তমুক্ত শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে তরুণদের আরেকবার জুলাই যোদ্ধা হিসেবে ময়দানে নামতে হবে। ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে আপনাদের ছিনিয়ে আনতে হবে চূড়ান্ত বিজয়।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তরুণদের হাতেই আগামীর নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে।
শহীদ পরিবারের পাশে জামায়াত
কবর জিয়ারত শেষে আমির আবু সাঈদের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্ত সময় কাটান। তিনি শহীদদের স্বপ্ন—অর্থাৎ একটি নিরাপদ, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আবু সাঈদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো অপশক্তিকে আর এদেশের শাসক হতে দেওয়া হবে না।”
নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ত সূচি
সফরসঙ্গী হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আক্তার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান তার ঝটিকা নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে গতকাল পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে জনসভা সম্পন্ন করেছেন। আজ পীরগঞ্জ থেকে সড়কপথে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় নির্ধারিত জনসভায় যোগ দিয়ে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

