
সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের শেষ বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় হুঙ্কার ছেড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পেলে মাত্র ৫ বছরেই দেশের সামগ্রিক চিত্র বদলে দেবে জামায়াত। বিগত ৫৪ বছরের লুটপাটের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, পাচার হওয়া জনগণের প্রতিটি পয়সা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিগত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না; সবাই কম-বেশি লুটপাট করেছেন। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।”
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে, তাদের কাউকে শান্তিতে থাকতে দেব না। প্রয়োজনে মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে টাকা বের করে আনা হবে।”
দুর্নীতিবাজদের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “যারা দুর্নীতি, লুটপাট আর চাঁদাবাজি করে, তারাই আজ বড় বড় কথা বলে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনসাফ কায়েম হলে দেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ চাঁদাবাজির হাত বাড়াতে পারবে না। দুর্নীতির সকল রুট চিরতরে বন্ধ করা হবে। কোনো অফিস-আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস বা সুযোগ থাকবে না।”
নিজের জন্মমাটি সিলেটের আবেগ ছুঁয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি। আজ আমি জামায়াতের আমির নয়, আপনাদের সন্তান হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আপনারা অনেককে সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হতে চাই না, পাহারাদার হয়ে কাজ করতে চাই। আমরা পিছু হটা চিংড়ি মাছ নই, সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”
সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন: নামমাত্র নয়, ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর এবং বন্ধ থাকা ম্যানচেস্টারসহ লন্ডনের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। সুরমা-কুশিয়ারা নদী খনন করে ‘নদীবান্ধব’ বাংলাদেশ গড়া এবং পরিবেশ রক্ষা। চা-শ্রমিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। জেলেদের জন্য ‘জাল যার জলা তার’ নীতি কার্যকর করা হবে। খনিজ সম্পদে ভরপুর সিলেটের প্রতিটি ঘরে গ্যাসের হিস্যা নিশ্চিত করা হবে।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আগামী ১২ তারিখ দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে এবং ১৩ তারিখ উদিত হবে একটি নতুন সূর্য।” ৫ আগস্টের পরিবর্তনের কথা স্মরণ করে তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “আমরা মজলুমরা যেন জালিম না হই। আমরা প্রতিশোধ নেব না, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে সহযোগিতা করব।”
জনসভা শেষে তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ৯টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ জোটের অন্যান্য প্রতীক দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।
