বাংলাদেশ প্রতিএদকঃ দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের নিরঙ্কুশ বিজয়ে নিশ্চিত হয়েছে দলটির সরকার গঠন। তবে এবারের নির্বাচনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে নারী প্রার্থীদের জয়জয়কার। সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন বিএনপির ৬ জন নারী নেত্রী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন আলোচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
এবারের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ৭ জন নারী প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের এক নতুন মাইলফলক।
নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আলোচনায় আসা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। সংসদীয় বিতর্কে তাঁর জোরালো ভূমিকার জন্য দেশজুড়ে পরিচিত রুমিন ফারহানা এবার স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে ফিরছেন, যা এই নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দীর্ঘ ২০ বছর সরাসরি ক্ষমতায় ছিল না বিএনপি। মাঝে কয়েক দফায় প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে দলটি।
ফরিদপুর ও সিলেট বিভাগে শক্ত অবস্থান: শামা ওবায়েদ ও নায়াব ইউসুফ কামালের জয়ের মাধ্যমে ফরিদপুর অঞ্চলে বিএনপির আধিপত্য প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে স্বামীর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।
মানিকগঞ্জ ও ঝালকাঠির পাল্লা: মানিকগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে আফরোজা খান রিতা ও ইলেন ভুট্টো বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ধানের শীষের শক্ত ঘাঁটির প্রমাণ দিয়েছেন। ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর-১ বিএনপি (ধানের শীষ) |
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়ে আসা এই দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত নারী নেত্রীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে শামা ওবায়েদ এবং রুমিন ফারহানার মতো বিতার্কিকদের সংসদে উপস্থিতি নতুন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

