শার্শা প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নে পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই তড়িঘড়ি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের এবং পুলিশি পদক্ষেপ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মামলায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার রাতে এ মামলার একজন আসামি যুবদল কর্মী মুকুল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। এর পর থেকেই এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শুকুর আলী ও তার ভাইপো শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ ও রূপা চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিজিবি বিপুল পরিমাণ রূপাসহ শরিফুলকে আটক করেছিল বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার জেরে শরিফুল একই গ্রামের আতিকুর রহমানকে বিজিবির ‘সোর্স’ হিসেবে সন্দেহ করে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সন্দেহের ভিত্তিতে পূর্বে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত রোববার সকালে রুদ্রপুর বাজারে আতিকুর রহমান ও মুকুল হোসেনের সঙ্গে শরিফুল ইসলামের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের একটি পক্ষ শরিফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পরপরই কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৩০, তারিখ: ২০-০৪-২০২৬)।
তবে এ মামলার ধরন ও প্রেক্ষাপট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কীভাবে সরাসরি চাঁদাবাজির মামলায় রূপ দেওয়া হলো তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলা গ্রহণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল হোসেন, সহ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আমিনুর, সাংগঠনিক সম্পাদক অলিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আলমগীর হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে মামলাটিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, দলের ত্যাগী নেতাদের হেনস্তা করতেই এ মামলা সাজানো হয়েছে।
মামলার আসামি বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন বলেন দলের অভ্যন্তরীণ একটি পক্ষের মদদে এ মামলা হয়েছে। স্থানীয় কিছু নেতা আওয়ামী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আড়াল করতে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এবং তাজউদ্দীন আহমদের মদদে এই সাজানো মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তারা মূলত আওয়ামী ক্যাডারদের সুরক্ষা দিতেই আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে নেতাকর্মী এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। এতে করে পুরো ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের আগে মামলা গ্রহণ ও গ্রেফতার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

