বিশেষ প্রতিবেদক: “আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, আমরা বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই।”
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারে ঐতিহাসিক ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির ফলক উন্মোচন ও মাটি কেটে উদ্বোধনের পর এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ৪২ বছর পর ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ১৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজে এই খালটি প্রথম খনন করেছিলেন, যা একসময় স্থানীয় কৃষিতে সোনালী বিপ্লব এনেছিল।
বক্তব্যের শুরুতেই সেই স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন “৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জনকল্যাণমূলক খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, আজ আমরা তা পুনরুজ্জীবিত করছি। দেশের কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তন এবং অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে সমগ্র দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।”
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী খালের তীরে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। আপনারা আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন, এবার আপনাদের দেওয়া প্রতিটি ওয়াদা আমরা পূরণ করব।”
তিনি দেশের চার কোটি পরিবারের মা-বোনদের হাতে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে মায়েরা ২৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের দেখভাল করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বাজেট ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন বর্তমান চলমান বাজেটটি বিএনপি সরকারের তৈরি নয়, এটি পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা। সেই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। আগামী জুনের নতুন বাজেটে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর জন্য বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ রাখছে।
জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে, আল্লাহ তাদের সাহায্য করেন। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি এক হয়ে কাজ করে, তবে ইনশাল্লাহ আমরা বিশ্বদরবারে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।”
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে নতুন স্লোগান দেন— ‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
কুমিল্লায় পথসভা: ‘জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ হবে’
চাঁদপুরের কর্মসূচি শেষে বিকেলে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক বিশাল পথসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কুমিল্লাকে বিভাগ করা যদি এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের দাবি হয়, তবে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।”
বিগত স্বৈরাচারী আমলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করেছিল। কথা বললেই গুম ও মামলার শিকার হতে হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করেছে।”
তিনি দেশের এই স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্র গঠনে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

