বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দুই শীর্ষ নেতা ও এনসিপি ব্যক্তিত্ব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সারজিস আলম।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাঁরা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির এই অনুষ্ঠানে ‘ইউনাইটেড পিপল’স বাংলাদেশ’ (আপ বাংলাদেশ)-এর ২২৯ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন।
এনসিপির মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শুক্রবার রাতের মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন “যদি আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স (সহিংসতা) বেছে নেন, তাহলে আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।”
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিরোধী দল বারবার রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সদ্বিচ্ছা দেখালেও সরকারি দল কেবল সংঘাত উসকে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এই লড়াইটা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, লড়াইটা হবে পুরো একটা প্রজন্মের সঙ্গে। এই প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করার ভুলটা শেখ হাসিনা করেছিলেন। আশা করি, এই ভুলটা তারেক রহমান করবেন না।”
তিনি বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, খুন, ধর্ষণ এবং নাগরিক নিরাপত্তার চরম সংকটের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ঝিনাইদহের হামলার ঘটনায় সরাসরি ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, সেখানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল আহ্বায়কেরা সন্ত্রাসী কায়দায় সরাসরি এই আক্রমণে অংশ নিয়েছেন।
বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে সারজিস আলম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন “ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা অভ্যুত্থানে আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন, আমরা তাঁদের সম্মান করতে চাই। কিন্তু তাঁরা যদি আগের ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করেন, তবে তার চেয়েও খারাপভাবে তাঁদের পতন হবে, ইনশাআল্লাহ।”
সারজিস আলম ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা যেন কেবল একদিনের ‘ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার খেলা’ না হয়। আগামী দিনের বাংলাদেশে কোনো পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ভিন্ন মত দমনের চেষ্টা আর সহ্য করা হবে না বলেও তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’-এর ২২৯ জন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদানের এই অনুষ্ঠানটি ঝিনাইদহের হামলার ঘটনায় কার্যত এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশে রূপ নেয়, যা দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।

