‘রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব’: ঈদের নামাজ শেষে নাহিদ ইসলাম

0
‘রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব’: ঈদের নামাজ শেষে নাহিদ ইসলাম

সংস্কার কার্যক্রমে বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান; আসন্ন বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের স্বস্তি ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের চলমান বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য এবং কার্যকর কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা একক কোনো উদ্যোগ নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এই গভীর সংকট থেকে দেশের উত্তরণ সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে রাজধানীর সালামবাগ জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

চলতি সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “দেশ বর্তমানে এক অভূতপূর্ব ও ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা, ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তাজনিত সমস্যা অন্যতম।”

তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের দৃশ্যমান আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়।

সংকট উত্তরণে সরকারের সদিচ্ছা ও কৌশল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন “চলমান রাষ্ট্রীয় সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করতে হলে সংস্কার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, বিরোধী দলকে আড়ালে রেখে বা তাদের বাদ দিয়ে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগই ভেস্তে যেতে বাধ্য। বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না এবং জনগণের আস্থাও অর্জন করা কঠিন হবে।”

তিনি সরকারকে অহংকার পরিহার করে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে বসার এবং একটি সম্মিলিত জাতীয় সংস্কারমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

সামনে আসতে যাওয়া জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গেও নিজের ও দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন এনসিপি প্রধান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তাই আসন্ন বাজেটে মেগা প্রজেক্টের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি টেনে ধরাকেই প্রধান অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাজারে স্বস্তি ফিরলে তবেই ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।