রাজধানীতে কোরবানি দিতে গিয়ে গরুর লাথি ও ছুরির আঘাতে জখম ৮০, পঙ্গু হাসপাতালে ২০ জন

0
রাজধানীতে কোরবানি দিতে গিয়ে গরুর লাথি ও ছুরির আঘাতে জখম ৮০, পঙ্গু হাসপাতালে ২০ জন

ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢামেক জরুরি বিভাগে আহতদের ঢল; পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার অসাবধানী মানুষই বেশি দুর্ঘটনার শিকার

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাঝেই অসাবধানতাবশত ঘটে গেছে ব্যাপক রক্তারক্তির ঘটনা। কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে চিরচেনা অসতর্কতার কারণে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত এই ব্যক্তিরা ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে মাংস কাটার হাড় বা রগ কেটে যাওয়া আশঙ্কাজনক প্রায় ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— ফারুক মোল্লা (৫০), মো. আনিছ (৩০), শাহের আলী (৫০), জাহিদ (৪২), মো. হারুন (৪০), মো. তৌহিদ (২৫), রাহাত (২৩), মো. করিম সিকদার (৪২), বেলাল হোসেন ( ৪০), জুয়েল (৩৮), আবুল কালাম (৪৭), হাফিজুর রহমান (২০), আরজু হোসেন (১৯), তৌহিদ ইসলাম (২০), ইব্রাহিম (২৫), ইছহাক (২৮), আইউব আলী (৫৫), তারিকুল হাওলাদার (২৮), মো. মামুন (২৬), সিহাব (২১), এনায়েত শেখ (৭০), আব্দুল কদ্দুছ (৫৪), নূর মোহাম্মদ (২৩), রাসেল (২১), নাসির হোসেন (২৮), বেল্লাল হাওলাদার (৫০)।

এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন— নয়ন (১৮), ইউসুফ ব্যাপারী (৫০), নবী হোসেন (৫০), আবদুর রহমান জুয়েল (৪০), শাহিন (২৪), সাদ্দাম (৩০), শামীম (৬২), বিজয় (২৫), শুভ (২৬), দুলাল (৪২), তৌকির (২৩), আকাশ (২২), আনোয়ার (৫২), রকিব (২৪), আইনুল (১৭), মো. জাহিদ (২৫), মুজাহিদ (২১), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মোজাম্মেল আশরাফ (৩৮), ফরহাদ শেখ (২১), কালাম (৩৪), আলী মিয়া (৬০), মো. রাসেল (৩৩), বাশার (৫৫), আব্দুস সামাদ (৬০), মিজানুর রহমান (৬০), রাব্বি (২২), সেলিম (৪৩), মো. সাকিল (২৮), ইয়াসিন (৪১), জাহেদ ব্যাপারী (৬০), মির্জা আবদুর রশিদ (৪৮) ও মোতালেব (৫৪) সহ আরও অনেকে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা রাজধানীর কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নন, বরং পুরো ঢাকা জুড়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের সিংহভাগই পুরান ঢাকার নারিন্দা, ওয়ারী, লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, চকবাজার, হাজারীবাগ ও বংশালের বাসিন্দা। এছাড়া সবুজবাগ, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, মিরপুর ও পল্লবী এলাকা থেকেও অনেক আনাড়ি কসাই এবং গৃহকর্তা রক্তাক্ত হাত-পা নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কলিন্স মল্লিক গণমাধ্যমকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান “কোরবানির সময় প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটে। এবারও সকাল থেকে একের পর এক জখম হওয়া রোগী আসতে থাকেন। এদের কেউ কেউ উত্তেজিত গরুর লাথি ও শিংয়ের সরাসরি গুঁতা খেয়েছেন। আবার কেউ কেউ মাংসের হাড় কোপাতে গিয়ে এবং চামড়া ছাড়ানোর সময় নিজের অসাবধানতায় ধারালো চাপাতি ও চুরির কোপে নিজেদের হাত-পায়ের আঙুল বা কব্জি কেটে ফেলেছেন।”

তিনি আরও জানান, ঢামেকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ড্রেসিং ও সেলাই শেষে বেশিরভাগ রোগীই বাড়ি ফিরে গেছেন। ঢামেক হাসপাতালে কাউকে ভর্তি রাখতে না হলেও গুরুতর অঙ্গহানির ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ২০ জনকে জরুরি ভিত্তিতে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পশুর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের সময় আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।