‘যারা একাত্তর ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না’: মির্জা ফখরুল

0
‘যারা একাত্তর ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না’: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মূল ভিত্তি এবং যারা একাত্তরকে ভুলে যেতে বা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ।

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রাখা মানে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে পেছনে ফেলে দেওয়া নয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিশ্বাস করতে হলে আমাদের অবশ্যই একাত্তরকে সামনে আনতে হবে। তবে একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ জুলাইকে পেছনে রাখা নয়। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও আমাদের অসংখ্য সন্তান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন এবং একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছেন। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান—কোনোটিকেই ছোট করে দেখে না।”

দেশে ধর্মভিত্তিক বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে অস্থিতিশীল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেব না, বরং একটি উদারপন্থী, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।”

সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দেশের কোনো নাগরিককে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তাঁদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে বিএনপি সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সম্মেলনে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের সুরক্ষা, প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের সামনে তুলে ধরেন।