নড়াইল প্রতিবেদক: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা বিএনপির পরীক্ষিত ও সংগ্রামী সভাপতি খান মতিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবং বিভিন্ন পোস্ট-স্ট্যাটাস ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিএনপির দুঃসময়ে নড়াগাতী অঞ্চলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন খান মতিয়ার রহমান। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন হামলা-মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার শিকার হলেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে পিছপা হননি। নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রাখা একজন পরীক্ষিত নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক। তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নোটিশের অভিযোগের বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও বাস্তবতা যাচাইয়েরও দাবি জানান তারা।
খান মতিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্ন পোস্ট, স্ট্যাটাস ও মন্তব্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
অনেকেই খান মতিয়ার রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাকে দেওয়া নোটিশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে ‘পরীক্ষিত’, ‘ত্যাগী’ ও ‘দুঃসময়ের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ফেসবুকে এসব পোস্ট ও মন্তব্য ঘিরে নড়াগাতীসহ আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে খান মতিয়ার রহমান বলেন, “আমার রক্ত, শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বহমান। আমি দলের আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ছিলাম। ভবিষ্যতেও দলের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সাংগঠনিকভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু মূল্যায়ন হবে এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক অবদান এবং অতীত ভূমিকা বিবেচনা করে বিষয়টি সহানুভূতিশীল ও সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হোক।
তবে খান মতিয়ার রহমানকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের সুনির্দিষ্ট কারণ, নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে দলীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।#

