এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলীয় জনপদবাগেরহাটের মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজার বড় চালানসহ দুই মাদককারবারিকে আটক করেছে র্যাব-৬। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে মোংলার দিগরাজ বাজারসংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, পরিবহনে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে মোংলায় প্রবেশের সময় দিগরাজ বাজার এলাকায় গোপাল সরকারকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজন মাদককারবারিকে আটক করে র্যাব। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আটক গোপাল সরকার মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপাল সরকার দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় মাদকের চালান এনে মোংলাসহ বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট মাদককারবারিদের কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন। পরে এসব মাদক স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বড় চালানটি আটকের মাধ্যমে শুধু দুই মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার নয়, এর পেছনে থাকা একটি সরবরাহ নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৫০ কেজির মতো বিপুল পরিমাণ গাঁজা কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এই মাদকচক্রের অর্থের জোগানদাতা কারা—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
র্যাব জানিয়েছে, চালানটির সঙ্গে জড়িত অন্য আসামি ও সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুই মাদককারবারি আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ৫০ কেজি গাঁজার চালানের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামি ও সহযোগীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোংলা ও উপকূলীয় জনপদে বড় মাদকের চালান আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বড় চালান বহনকারী ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের মূল হোতা, সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও খুচরা বিক্রেতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৫০ কেজি গাঁজার এই চালান শুধু দুই ব্যক্তির কারবার, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো মাদক নেটওয়ার্ক—এখন সেটিই তদন্তের মূল প্রশ্ন।
র্যাবের তদন্তে চালানের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের পরিচয় বেরিয়ে এলে মোংলাকেন্দ্রিক মাদক সরবরাহের নেপথ্য চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

