মোসাদ্দেকের প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য, শান্ত-তামিমের ফিফটি
ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। দুজনেই দারুণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। শান্ত ৬৭ এবং তামিম ৫৪ রান করে আউট হওয়ার পর হঠাৎ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মিডল অর্ডার। মাত্র ৩৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন দীর্ঘ ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটিকে রূপ দেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে। অজি বোলারদের শাসন করে মাত্র ৭০ বলে ৮৬ রানের এক অনবদ্য ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাসকিন আহমেদ (১৫ বলে ২০ রান)। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২টি করে এবং জাভিয়ের বার্টলেট ১টি উইকেট পান।
তাসকিন-মুস্তাফিজের তোপ: শুরুতেই ব্যাকফুটে অস্ট্রেলিয়া
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। গতিদানব তাসকিন আহমেদের ভেতরে ঢুকে আসা প্রথম ডেলিভারিটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট। বল সরাসরি আঘাত হানে মিডল স্টাম্পে। ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে সাজঘরে ফেরেন শর্ট।
পরের ওভারেই আক্রমণে এসে মরণকামড় দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেনকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নিখুঁত রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। মাত্র ৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে কুপার কনোলির সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জশ ইংলিশ। তবে ১৯ রান করা ইংলিশকে নিজের তৃতীয় ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোকা বানান গতি তারকা নাহিদ রানা। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে অজিদের আশার আলো দেখাচ্ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি (৬২ বলে ৪৭)। কিন্তু তাকেও উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন রানা। এরপর ক্যামেরুন গ্রিনকে (২২) ফিরিয়ে অজিদের জয়ের সব আশা শেষ করে দেন তিনি। ম্যাচে একাই ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা।
ব্যাট হাতে আলো ছড়ানোর পর বল হাতেও ভেলকি দেখান মোসাদ্দেক হোসেন। মিডল অর্ডারে ভাঙন ধরিয়ে তিনি লুফে নেন ২ উইকেট।

ফলাফল: বাংলাদেশ ডিএলএস (DLS) মেথডে ৮৬ রানে জয়ী।
১৯১ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর মিরপুরের আকাশে বৃষ্টি নামলে খেলা আর মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে ততক্ষণে চালকের আসনে থাকা বাংলাদেশ ডিএলএস পার স্কোরের চেয়ে ৮৬ রানে এগিয়ে থাকায় রেফারি বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের এই গৌরবময় দিনটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

