ক্রীড়া ডেস্ক: টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অপ্রতিরোধ্য রেকর্ড, নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবল এবং ইউরো জয়ের তেজ—সবকিছু নিয়েই মাঠে নেমেছিল স্প্যানিশ আর্মাডা। আর সেই প্রবল ঝড়ের মুখেই কার্যত বোতলবন্দী হয়ে গেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের নাটకీయ লড়াইয়ে ১০ জনের আলবিসেলেস্তেদের ১–০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের যে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন লিওনেল মেসি ও তাঁর দল, স্প্যানিশদের জমাট রক্ষণে তা তাসের ঘরের মতো ভেসে গেছে।
বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাতের এই মেগা ফাইনালে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
৫ম মিনিট: স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল গোল করার প্রথম সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
১২তম মিনিট: স্পেনের প্রথম কর্নার চমৎকার দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধের পুরোটাই স্প্যানিশ আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। স্পেনের গোলমুখে তারা তেমন কোনো ভীতিই ছড়াতে পারেনি, যদিও কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে না পারায় প্রথম অর্ধে গোলশূন্য থাকে ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। তবে স্প্যানিশদের একের পর এক নিশ্চিত সুযোগ চীনের প্রাচীর হয়ে আটকে দিচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে। দায়িত্বজ্ঞানহীন এক ফাউলের কারণে এনজো ফার্নান্দেজ সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলায় আর্জেন্টিনার শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির সুযোগটিই পুরোদমে কাজে লাগায় স্পেন।
ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত—বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বল নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে বাড়ান নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় দাঁড়ানো ফেরান তোরেস কোনো ভুল না করে চলন্ত বলেই এক বুলেট গতির শটে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে! উথলে ওঠে স্প্যানিশ গ্যালারি।
শেষ দিকে ১০ জন নিয়ে আর্জেন্টিনা সমতায় ফিরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও স্পেনের জমাট রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই বিশ্বজয়ের রাজকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে ফুয়েন্তের দূরন্ত স্পেন।

