শাহজাদপুরে ৯৫ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু

0
শাহজাদপুরে ৯৫ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু

বিমল কুন্ডু : সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠী পূজাতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য ৫ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামীকাল সপ্তমী পূজার দিন থেকে মন্ডপে মন্ডপে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে।

জানা গেছে, চলতি বছর শাহজাদপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়নের ৯৫ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে শাহজাদপুর পৌরসভার ২৯ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব সম্পন্ন হবে। শাস্ত্রীয় মতে এবার দেবী গজে আগমন করেছেন। যার ফল শস্যপুর্ণা বসুন্ধরা। অন্যদিকে দেবী দোলায় গমন করবেন। যার ফল মড়ক।

এদিকে শিল্পীর হাতের রং তুলির নিপুন ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ,কার্তিক, গণেশ সহ অন্যান্য মূর্তি । শাহজাদপুর পৌরসভার সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মণ্ডপগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে । প্যান্ডেল তৈরির পাশাপাশি সাদৃশ্য তোরন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপ সংশ্লিষ্ট জনপদ। বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে জানা গেছে, পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাণী পাঠাগার ,বীণাপাণি পাঠাগার কিশোর সংঘ , ব্রতচারী সংঘ ও নবরূপ সংঘ দূর্গা মন্ডপে বড় বাজেটের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে । পাশাপাশি সদৃশ্য প্যান্ডেল , ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব মন্ডপে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করেছেন। আয়োজকরা জানান, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও টাঙ্গাইল থেকে আগত শিল্পীরা উপজেলার ৭টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। বাইরে থেকে আসা প্রতিমা শিল্পীদের তৈরি করা প্রতিটি প্রতিমার মজুরি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত । অন্যদিকে উপজেলার প্রাণনাথপুর মহল্লার প্রতিমা শিল্পী রনজিত পাল ও পলান পাল জানান, তারা উপজেলার ১৬ টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরি করেছেন। তাদের তৈরি করা প্রতিমার মজুরি সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়ার কারিগরদের কারখানা থেকে অনেকেই তৈরি করা প্রতিমা কিনে এনেছেন।

এদিকে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথকভাবে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। উক্ত সভায় উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল , উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দত্ত জানান, এবারে উপজেলায় ৯৫ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ আছলাম আলী জানান, আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে তিন স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । তিনি জানান, পূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন । পাশাপাশি মন্দির সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল পুলিশের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও সাদা পোশাকের পুলিশ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা পালন প্রস্তুতি নিয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ধর্মীয় মর্যাদায় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সকল মন্দির কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদে একটি মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।