জয়নাল আবেদীনঃ রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার বহুল আলোচিত ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে। আদালতের জবানবন্দিতে আসামিরা জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের আগে ৯ পিস ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করলেও, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশনার পর গত রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে ডিবি পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম দুই আসামির প্রস্রাবের (ইউরিন) নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে সংগৃহীত নমুনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার প্রাপ্ত ফলাফলে দুজনের শরীরেই মাদকের কোনো প্রতিক্রিয়া বা আলামত পাওয়া যায়নি।
মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত মাদক সেবনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করা হলে রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে; সময় পার হয়ে গেলে পরীক্ষায় তা নেগেটিভ আসার সম্ভাবনা থাকে।
গত ২১ আগস্ট ভোরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত গণপতির ভাই মামলা দায়ের করার পর ২৩ আগস্ট ভোরে প্রতিবেশী দুই যুবক—বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) এবং কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাসকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, ২০ আগস্ট গভীর রাতে তারা মোট ৯ পিস ইয়াবা সেবন করে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেয়। ভোরে শিক্ষক গণপতি তাদের দেখে ফেললে পরিচয় গোপন রাখা ও ধৃত পড়ার ভয়ে তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর একে একে পরিবারের বাকি তিন সদস্যকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয় বলে তারা জবানবন্দিতে স্বীকার করে।

