বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ধানমন্ডির ব্যস্ততম এলাকায় ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এক গ্রাহককে লক্ষ্য করে সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে পিস্তলসহ স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন চক্রের মূল সদস্য তানভীর আবেদীন জুয়েল (৪১)। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর দ্রুততম সমন্বয় ও পুলিশ-ডিবির একযোগে যৌথ অভিযানে এ ঘটনার সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটির আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভরদুপুরে ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে ফিরছিলেন। ধানমন্ডি লেকের কাছাকাছি পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা তিন ছিনতাইকারী একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে এসে তার টাকার ব্যাগটি একঝাঁকুনিতে ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে।
টাকা হারিয়ে ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া শুরু করেন। ধাওয়া খেয়ে দ্রুত পালাতে গিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান তানভীর আবেদীন জুয়েল। পরিস্থিতি বুঝে আশপাশের পথচারী ও লেকে থাকা সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে জুয়েলকে ঘিরে ফেলেন এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোন দিলে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। কলটেকার কনস্টেবল মজিবুর রহমান এবং ডিসপাচার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ধানমন্ডি থানা ও গোয়েন্দা বিভাগকে নিখুঁত অবস্থান নিশ্চিত করে বার্তা পাঠান।
ঘটনাস্থলে ধানমন্ডি থানার আভিযানিক দল পৌঁছে অস্ত্রসহ মূল আসামি জুয়েলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েলের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম যৌথ ছায়া অভিযান পরিচালনা করে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উক্ত অপরাধী চক্রের বাকি দুই সহযোগীকেও জালে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ধানমন্ডি থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মূল উৎস এবং চক্রটির পেছনে আরও কোনো প্রভাবশালী মাস্টারমাইন্ড যুক্ত রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছিনতাই হওয়া পুরো ৩৯ লাখ টাকা উদ্ধার এবং চক্রটিকে মূলউৎপাটনে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

