গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে কিফায়া’: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

0
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে কিফায়া’: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

সিলেট ব্যুরোঃ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক জয়ের গুরুত্বকে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আবশ্যিক কর্তব্য বা ‘ফরজে কিফায়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। শুক্রবার দুপুরে সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “যারা নির্বাচন চায় না, তারা সব সময় প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমরা যত বেশি জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে পারব, অশুভ শক্তি তত দ্রুত পরাজিত হবে।” তিনি আরও বলেন, এই গণভোট দেশের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে কী পরিবর্তন আনবে, তা সাধারণ ভোটারদের বুঝিয়ে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে মুক্তিযুদ্ধ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সভায় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোট সফল করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের জড়তা রাখা চলবে না।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টারা বলেন, “ভারতের সাথে সম্পর্ক এখন বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তাই ছোট কোনো বিচ্যুতিকেও তারা বড় করে প্রচার (ভাইরাল) করতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে বিএনপির জনসভার প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি বড় রাজনৈতিক দলের জনসভার আগেই আমাদের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি রাখতে চাই না।” এছাড়া নির্বাচনী সময়ে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণের সীমা নির্ধারণে একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলেও জানানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নাগরিকদের সংবিধানের উচ্চকক্ষ বা নিম্নকক্ষ বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বরং গণভোটের সুফল তাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে পড়বে, তা বুঝিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।”

সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।