নওগাঁ প্রতিনিধিঃ জনগণই বিএনপির মূল শক্তি উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। গত ১৭ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন ও জেল-জুলুম সহ্য করেও বিএনপি আজ যে টিকে আছে, তা কেবল জনগণের ভালোবাসার কারণেই সম্ভব হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের ঐতিহাসিক এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলীয় এই জেলায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে এক পক্ষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু যারা গত ১৬ বছর পর্দার আড়ালে তাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখনো ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো কোনো ‘ম্যাজিক’ যেন কেউ দেখাতে না পারে। খালি বাক্স যেন ভরা বাক্সে পরিণত না হয়, সেজন্য প্রতিটি ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে।”
নওগাঁর কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বেশ কিছু নতুন ও যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দেন:
কৃষি ঋণ ও সুদ মওকুফ: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের জন্য ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করেছিলেন। তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই সীমা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হবে।
স্মার্ট কৃষি কার্ড: দেশের প্রতিটি কৃষকের হাতে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকার সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় বীজ ও সার পৌঁছে দেবে।
হিমাগার ও রেল যোগাযোগ: এই অঞ্চলে উৎপাদিত আম ও অন্যান্য ফসল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং স্বল্প খরচে পণ্য ঢাকায় পরিবহনের জন্য উন্নত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি বলেন, “মায়েদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। যার মাধ্যমে তারা মাসিক সরকারি সুবিধা এবং গ্রাম পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন।”
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তারেক রহমান একটি বহুমুখী কর্মসংস্থান নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পড়াশোনা করলেই যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে তা নয়, তরুণরা খেলাধুলা বা কারিগরি বিদ্যায় পারদর্শী হয়েও বিশ্বজুড়ে সুনাম ও অর্থ উপার্জন করতে পারে। আমরা আইটি সেক্টরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব। বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে আমাদের কথা হয়েছে, দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে আমাদের তরুণরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে পারবে।”
বিগত সরকারের উন্নয়ন দর্শনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ঢাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে দেখানো হলেও প্রকৃত অর্থে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের লক্ষ্য মেগা দালান নয়, বরং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানুষ যেন নিরাপদে ঘুমাতে পারে এবং নির্বিঘ্নে পথে-ঘাটে চলতে পারে, সেটাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠুসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা (নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ এবং জয়পুরহাট-১ ও ২ আসনের প্রতিনিধিরা) এই সমাবেশে অংশ নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান।

