যৌন হয়রানি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক সেলিনা কারাগারে

0
যৌন হয়রানি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক সেলিনা কারাগারে

বরিশাল ব্যুরোঃ সাবেক স্বামীকে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের আপত্তিকর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) সেলিনা বেগমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক এস.এম শরিয়তুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই হুমায়ন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলা কালচারাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুর রশিদের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১ মার্চ সেলিনা বেগমের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই স্বামী হাসানুর রশিদ অভিযোগ করেন, সেলিনা বেগম আগে থেকেই একাধিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন এবং তার পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন। এই নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই লালমনিরহাটে স্ত্রীকে মারধরের শিকার হন হাসানুর এবং ৩১ জুলাই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

বাদীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর সেলিনা বেগম প্রতিহিংসাবশত তাদের একান্ত মুহূর্তের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে বাদীর সামাজিক ও পেশাগত মানহানি ঘটান। শুধু তাই নয়, আরও আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। এসব অভিযোগে হাসানুর রশিদ বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কোতয়ালী মডেল থানা মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার মামলার নির্ধারিত তারিখে আসামি সেলিনা বেগম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো সেলিনা বেগম (৪০) বরিশাল নগরীর নতুন আবাসিক এলাকার নুরজাহান মঞ্জিলের বাসিন্দা মো. কাঞ্চন গোলদারের কন্যা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। একজন পদস্থ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।