‘দুর্নীতির ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে’: বরিশালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

0
‘দুর্নীতির ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে’: বরিশালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বরিশাল প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, এবার ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতিবাজদের সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, বড় দুর্নীতিবাজরা আইনের বাইরে থাকবে আর ছোটরা শাস্তি পাবে—এমন বৈষম্য আর চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন: “দুর্নীতির শিকড় ও মূল ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দায়িত্ব পেলে নিজেরা যেমন চাঁদাবাজি করব না, তেমনি কাউকে চাঁদাবাজি করার সুযোগও দেব না। আইনের চোখে রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই সমান থাকবে।”

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের পকেট কাটা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশের ৪টি জাতীয় বাজেটের সমান। পাচার হওয়া এই সম্পদ ১৮ কোটি মানুষের আমানত এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে চূড়ান্ত লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে গত দেড় দশকে যে ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের জন্য আইনি লড়াই চলবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের মিথ্যা মামলা বা মামলা বাণিজ্যের জায়গা জামায়াতে হবে না।

দেশের তরুণ সমাজ ও নারীদের নিয়ে দলের রূপরেখা তুলে ধরে আমির বলেন: বেকার ভাতা দিয়ে নয়, বরং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের স্বাবলম্বী করা হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদী শাসনের চেয়ে নদী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন করা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি এক পর্যায়ে নির্বাচনী মিছিলে রূপ নেয়।