নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই স্থবিরতা বর্তমানে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। একইসাথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতেও হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই বাস, ট্রাক এবং ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে।
যানজটের প্রধান কারণসমূহ:
ভোটের চাপ: আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ায় যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
পুলিশের অনুপস্থিতি: নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে হাইওয়ে পুলিশের অধিকাংশ সদস্যকে নির্বাচনী মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই।
সড়ক সংস্কার: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলমান সংস্কার কাজের কারণে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংযুক্ত অন্যান্য সড়কেও।
পুলিশের পক্ষ থেকে জনবল সংকটের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করা হয়েছে। শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জুলহাস জানান, “নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রায় সব সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমরা শিমরাইল পয়েন্টে মাত্র দুইজন ডিউটি করছি। এই বিশাল চাপ সামলানো আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
একই সুর কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সাহাবুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন: “আমাদের থানায় বর্তমানে মাত্র চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। বাকিরা সবাই নির্বাচনী ডিউটিতে। একদিকে সংস্কার কাজ, অন্যদিকে নির্বাচনী ভিড়—সব মিলিয়ে জনবল সংকটে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তবুও আমরা যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বেলা বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়ছে। বিকল্প পথ না থাকায় এবং হাইওয়েতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এই জট সহজে কাটবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ সংশয় প্রকাশ করেছেন।

