‘এটাই আমার শেষ নির্বাচন, পাশে থাকুন’: ঠাকুরগাঁওয়ে আবেগঘন মির্জা ফখরুল

0
‘এটাই আমার শেষ নির্বাচন, পাশে থাকুন’: ঠাকুরগাঁওয়ে আবেগঘন মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর। তবে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে এবারের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছোট-বড় সবার কাছে যিনি ‘স্যার’ হিসেবে পরিচিত, সেই প্রিয় শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ এখন দিন-রাত এক করে ছুটছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগকালে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আপনারা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।” তিনি আরও যোগ করেন, জয়-পরাজয় যাই হোক, গত ৩৫ বছর ধরে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের পাশেই ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

প্রচারণা সভায় বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁওকে একটি ‘মডেল অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তার নির্বাচনী ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলো হলো: একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা। কারিগরি শিক্ষা ও ডাটা প্রসেসিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ। কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা। সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।

প্রচারণার এক পর্যায়ে ২৯ মাইল এলাকায় রাস্তা খারাপ থাকায় গাড়ি ছেড়ে ভ্যানে চড়ে সভায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এ সময় সমর্থকদের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ তাকে টাকার মালা পরিয়ে দেন, আবার কেউ নিজের জমানো মাটির ব্যাংক উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রিয় নেতার হাতে। সুরাইয়া জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী নিজের বাগানের ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “স্যার, আপনি জননন্দিত নেতা, আমরা আপনার জয় চাই।”

মির্জা ফখরুলের পক্ষে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, মাঠে নেমেছেন তার পরিবারের সদস্যরাও। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এবং মেয়ে শামারুহ মির্জা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, “মহাসচিব আমাদের অভিভাবক, সাধারণ মানুষ তাকে শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে, যা ভোটের মাঠে আমাদের বড় শক্তি।”

অবহেলিত ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে একজন প্রভাবশালী নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন স্থানীয়রা। রায়পুর এলাকার ভোটার সফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে কৃষিকাজ ছাড়া কর্মসংস্থান নেই। স্যার জিতলে এখানে শিল্প-কারখানা হবে, আমাদের সন্তানদের চাকরি হবে।” চিলারং ইউনিয়নের দিপালি রায় লাঠিতে ভর দিয়ে এসেছিলেন প্রিয় নেতাকে দেখতে; তার বিশ্বাস, ‘স্যার’ জিতলে এলাকার রাস্তাঘাট ও অভাব দূর হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ‘স্যার’ খ্যাত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়রথ কতটুকু সচল থাকে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।