বাংলাদেশ প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬। নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে এখন উৎসবমুখর ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে কমিশন বদ্ধপরিকর।
সিইসি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখের বেশি সেনা সদস্য মাঠে থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সিইসি বলেন, “আমরা কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং মানুষের আস্থার প্রতিফলন দেখতে চাই। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।”
এবারের নির্বাচনে বড় চমক হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে অবস্থানরত ভোটাররা এই সুযোগ পাচ্ছেন। সিইসি জানান, ইতোমধ্যে ১২২টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং সেই ব্যালট পেপারগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরেও সরকারি কর্মকর্তা এবং কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আগামীকাল একই সাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন: ১. সাদা ব্যালট: সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। ২. গোলাপী ব্যালট: সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষে (হ্যাঁ/না) মত দেওয়ার জন্য।
ব্রিফিংয়ে সিইসি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৬০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকছেন। এছাড়াও দেশি নিবন্ধিত সংস্থার প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। সিইসি আশা প্রকাশ করেন, পর্যবেক্ষকরা তাদের প্রতিবেদনে নির্বাচনের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন।

