‘হাসিনা ইস্যুতে আটকে থাকবে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক’: দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল

0
‘হাসিনা ইস্যুতে আটকে থাকবে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক’: দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল

আজকের ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক কোনো একটি বিশেষ ইস্যুতে ‘বন্দী’ বা থমকে থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা দুই দেশের বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে কোনো বাধা হবে না।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য জনগণের তীব্র দাবি আছে।

বিএনপি মনে করে ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া। তবে ভারত যদি তাঁকে ফেরত না-ও দেয়, তবুও বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

“আমরা ভারতের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই। আমেরিকা ও চীনের মধ্যে অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের সম্পর্কও একটি ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়।” — মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার উদাহরণ টানেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা যখন ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখনও জিয়াউর রহমান ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং দিল্লি সফর করেছিলেন। একেই তিনি ‘রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপি মহাসচিব তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন: গঙ্গা পানি চুক্তি: আগামী বছর এই চুক্তির নবায়নের সময় ফারাক্কার পানির হিস্যা নিয়ে আলোচনা জরুরি।

সীমান্ত হত্যা: সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন।

যুদ্ধের বিপরীতে আলোচনা: তিনি বলেন, যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা অবাস্তব কথা বলে। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের বেকার তরুণদের দক্ষ করে তুলতে ভারতের কারিগরি শিক্ষা ও সম্পদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এতে বাংলাদেশিরা বিদেশের বাজারে আরও ভালো কর্মসংস্থান পাবে। এছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা এবং মেগা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিশোধ বা সহিংসতার রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। বিএনপি একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সব পক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে।