আজকের ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে নতুন ভোরের পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসেছে এক অনন্য ‘ভারসাম্য’।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিগত দেড় দশকে যে গভীর ক্ষত রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তৈরি করা হয়েছিল, তা মাত্র ১৮ মাসে পুরোপুরি উপশম করা সম্ভব নয়। তবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত এবং আস্থাহীন বিচারব্যবস্থাকে টেনে তোলার কাজ শুরু করেছে।
“দেশ এখন দৃঢ়ভাবে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হচ্ছে।” — প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
কূটনীতিতে বড় জয়: ভারতের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সম্পর্ক
বিবৃতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের একপাক্ষিক নীতির বদলে এখন পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো:
জাপান: অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির মাধ্যমে ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র: দীর্ঘ আলোচনার পর শুল্কহার ৩৭% থেকে কমিয়ে ২০%-এ নামিয়ে আনা।
চীন: ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় বিশেষ সহযোগিতা।
গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার কেবল আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে: প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধনী আইন প্রণীত হয়েছে। ৬০০-রও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত। ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোকে তথ্য প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) পুনর্গঠন করে এর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগে ১২০০-রও বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বন্ধ করে দেওয়া গণমাধ্যমগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে। সরকার মনে করে, একটি নাগরিকবান্ধব কাঠামোর কেবল সূচনা ঘটেছে। ১৬ বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগলেও, দেশ এখন সঠিক ট্র্যাকে রয়েছে।

