রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সরকারী সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না

0
রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সরকারী সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না

জয়নাল আবেদীন: রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সরকারী সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না। আটক হওয়া সারের বিষয়ে কিছুই জানেন না গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলাররা।

সারের রহস্য উদ্ঘাটনে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ করছে পুলিশ। সেই সাথে ট্রাক ভর্তি সারসহ আটক হওয়া চালককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সার কালোবাজারীর পেছনে দায়িত্বশীল কেউ জড়িত থাকলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারী রাত ৯টায় পরশুরাম থানার সামনে পুলিশ সন্দেহভাজন একটি ট্রাক আটক করে চালক মানিক মিয়ার (৪৮) কাছে সার সরবরাহের কাগজপত্র দেখতে চায়। এ সময় চালক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে না। ট্রাকটি তল্লাশী করে পুলিশ ১শ৩৪ বস্তা টিএসপি সার, ৫০ বস্তা ডিএপি সার ও ৩০ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ২শ১৪ বস্তা সার উদ্ধার করে।

যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সেই সাথে ট্রাক চালক নগরীর তাজহাট কেডিসি রোড সুলতান নগরের খবির উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এদিকে সারগুদামে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, নগরীর বিএডিসি কালীবাড়ি সার গুদাম থেকে ১৯ জানুয়ারী গঙ্গাচড়ার ডিলার রাকিবুল ইসলামের কাছে ৭শ৩৮ বস্তা সার পাঠানো হয়। ওই সার রাকিবুল ইসলাম বুঝে পেয়েছেন বলে জানান গুদামের ইনচার্জ ও বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, সার বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের সার বরাদ্দ করা হয়। গত ১৯ জানুয়ারী পুলিশ আমাকে ফোন দিয়ে আটক সারের বিষয় জানতে চায়।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আটক সারটি ডিলার রাকিবুল ইসলামের হতে পারে। তখন পুলিশকে তার নাম বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি রাকিবুলকে ফোন করে জানতে পারি তিনি তার বরাদ্দকৃত সার পেয়েছেন। যা পরে আমি পুলিশকে জানিয়েছি। আমার গুদাম থেকে কালোবাজারে সার যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এখন কোন ডিলার যদি তার বরাদ্দের সার বাজারে বিক্রি করে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই। অপরদিকে লালবাগ সার গুদামের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, ১৯ জানুয়ারী বিকেলে পীরগাছার ডিলার মমদেল হোসেনের কাছে বরাদ্দকৃত ৮৮৬ বস্তা সার পাঠানো হয়েছে। সেই সার পুলিশের হাতে আটক হওয়া মানিক মিয়া পরিবহন করেছেন। তবে মমদেল জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত সার তিনি পুরোটা বুঝে পেয়েছেন।

গুদাম ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ১৯ জানুয়ারী ডিলার মমদেল আমাকে ফোন করে ট্রাক চালক মানিক মিয়াকে সার বুঝে দিতে বললে আমি কাগজপত্রসহ তাকে সার বুঝিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে ডিলার মমদেল সার বুঝে পেয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। মানিক মিয়া যে সারসহ আটক হয়েছে সেটি আমি জানি না। ওদিকে উভয় ডিলারই তাদের বরাদ্দকৃত সার বুঝে পেলে আটক হওয়া সার কার এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, সরকারী সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিলো এমন তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাকটিকে আটক করা হয়। আটক ট্রাক চালক মানিক মিয়া পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যা তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না।

পরশুরাম থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারী সার কোন গুদাম থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছিলো, কালোবাজারীর সাথে কারা জড়িত তা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা চাই সকল অপরাধীরাই যেন শাস্তির আওতায় আসুক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সার আটকের ঘটনাটি শুনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।