পাওনা ৩ লাখ টাকা না দিতে বন্ধুকে বিষ খাইয়ে হত্যা, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

0
পাওনা ৩ লাখ টাকা না দিতে বন্ধুকে বিষ খাইয়ে হত্যা, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া শহরের স্টেশন সড়ক এলাকার বিশিষ্ট ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম (৩৭) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। মায়ের নামে নেওয়া এনজিওর ঋণের টাকা বন্ধুদের ধার দেওয়াই কাল হলো তার। পাওনা ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে কৌশল ডেকে এনে কোমল পানীয়র সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে।

এই নৃসংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্ত মো. নাজিম উদ্দিন (৩৭) নামের এক আসামিকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিহত ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। সেখান থেকে তিনি তার দুই বন্ধু মো. নাজিম উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা এবং মো. স্বপনকে ২ লাখ টাকা ধার দেন।

পরবর্তী সময়ে ওয়াহেদ পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বন্ধুদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ধারের টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে নাজিম ও স্বপন তাকে হত্যার নকশা তৈরি করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় (উল্লেখ্য, অভিযুক্ত নাজিম ও স্বপন উভয়েই একটি এনজিওতে বাবুর্চির কাজ করতেন)। সেখানে কৌশলে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হলে গভীর রাতে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে কাছের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পাঁচ দিন পর, গত ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা লাশ শনাক্ত করার পর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে নাজিম ও স্বপনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামি নাজিমকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার নাজিমকে রিমান্ডে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।