মতলবে ১০৭তম লেংটার মেলা: মাদক ও জুয়ার গ্রাসে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, খাদেমের ওপর হামলা

0
মতলবে ১০৭তম লেংটার মেলা: মাদক ও জুয়ার গ্রাসে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, খাদেমের ওপর হামলা

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী বদরপুরে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ১০৭তম ‘লেংটার মেলা’ ঘিরে এখন চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজ করছে। আধ্যাত্মিক মিলনমেলার তকমা ছাপিয়ে এবারের আয়োজনটি মাদক, জুয়া আর অশ্লীলতার আখড়ায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে খোদ মাজারের খাদেমের ওপর হামলার ঘটনা মেলা প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বদরপুর গ্রামসহ আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে। মাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে পুকুরপাড়সহ বিস্তীর্ণ জনপদে প্রকাশ্যেই বসেছে গাঁজার আস্তানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলা এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত তিন শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে। দিনদুপুরে মাদক বেচাকেনা চললেও রাত বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে জুয়ার আসর আর উচ্চশব্দে অশ্লীল গান-বাজনার দাপট।

মেলার প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকেলেই মাদক ও জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশৃঙ্খলা থামাতে এগিয়ে গেলে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের কণ্ঠে ঝরছে আক্ষেপ। কুষ্টিয়া থেকে আসা ভক্ত মনজ্জুরুল হক ফকির বলেন, “আমরা জিকির আর আধ্যাত্মিক শান্তির জন্য আসি। কিন্তু কিছু লোকের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আশেকান নেয়ামত উল্ল্যা জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় এবং মাদকসেবীদের উৎপাত বাড়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, “মেলায় এবার মানুষের চাপ অনেক বেশি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত অ্যাকশনে যাচ্ছি।”

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রতিবছরই প্রশাসনের আশ্বাসের আড়ালে চলে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে কেবল নামমাত্র তদারকি নয়, বরং জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।