ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে ‘আত্মহত্যার হুমকি’র যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মূলত কয়েকজন কথিত সাংবাদিকের প্ররোচনায় পড়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এমন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী আয়োজিত নির্বাচনী পরীক্ষায় ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। নিয়মানুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে মানবিক কারণে গভর্নিং বডি পুনরায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ দিলেও সেই ২২ জন আবারও অকৃতকার্য হয়। এমনকি অনেকে ইংরেজি বিষয়ে শূন্য (০) থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফরম ফিলাপের দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘোরে। এর মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক ও কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে সাংবাদিক পরিচয়ধারী তিন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়েছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান— “আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপে পড়বে এবং তোমরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।” তাদের এমন প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়েই সরলমনা শিক্ষার্থীরা ক্যামেরার সামনে ওই বক্তব্য দেয়।
উপজেলা প্রশাসনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল স্বীকার করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারা জানায়, কারো প্ররোচনা ছাড়া তারা এমন কাজ করত না এবং তাদের প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তারা আগামী বছর ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান বলেন, “তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে শিক্ষার্থীরা অন্যের প্ররোচনায় এমন পথ বেছে নিয়েছিল। আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি না করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো একটি ভিডিওর মাধ্যমে কলেজের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য যাচাই না করে যারা এসব প্রচার করেছে, তাদের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

