মার্কিন দুর্গে বড় আঘাত : জর্ডানে মার্কিন স্টিলথ ফাইটার ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হানা

0
মার্কিন দুর্গে বড় আঘাত : জর্ডানে মার্কিন স্টিলথ ফাইটার ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নতুন এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইরান। জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আল-আজরাক’-এ (Muwaffaq Salti Air Base) ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাতে চালানো এই আক্রমণকে ইরান তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ (Operation True Promise-4)-এর অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তেহরান থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন বিমান বাহিনীর গর্ব— ‘ফিনিক্স’ এবং অন্যান্য পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের একঝাঁক আত্মঘাতী (Suicide Drone) ড্রোন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ফাঁকি দিয়ে সরাসরি হ্যাঙ্গারে আঘাত হেনেছে, যার ফলে বেশ কিছু যুদ্ধবিমান এবং লজিস্টিক ওয়্যারহাউস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আল-আজরাক বা মুয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অপারেশনাল হাব হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই সিরিয়া এবং ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ড্রোন অপারেশন পরিচালনা করা হয়। জর্ডান এতদিন মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা ‘সেফ জোন’ হিসেবে বিবেচিত হলেও এই হামলা সেই ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।

ইরান এই হামলাকে তাদের চতুর্থ পর্যায়ের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান দাবি করছে তাদের ড্রোনগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে ওয়াশিংটন বা জর্ডান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সেনাসদস্য হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি।

সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনেও একই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করার খবর পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে ইরান একযোগে একাধিক ফ্রন্টে তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে।

ইউরোপীয় এবং মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, জর্ডানের মাটিতে সরাসরি আক্রমণ মানে হলো ইরান এখন আর প্রক্সি যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা সরাসরি মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বর্তমানে পুরো জর্ডান এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)।