সংসদ প্রতিবেদকঃ আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন (এক লক্ষ কোটি) ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে উন্নীত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি সরকারের এই নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বিগত আওয়ামী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকেই কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। দুর্নীতির মহোৎসবে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ পাহাড়সম হলেও সাধারণ মানুষ ক্রমশ দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও অর্থনীতির নিম্নমুখী ধারা বজায় ছিল। এখন সেই ধসে পড়া সূচকগুলোকে টেনে তোলার গুরু দায়িত্ব জনগণ এই সরকারের কাঁধে দিয়েছে।
জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকারের অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকার নিরলস কাজ করছে।
বাজার কারসাজি: নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি সহ্য করা হবে না। বাজার অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান নেবে সরকার।
বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকি: অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে। এর ফলে বাজেটে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও জনগণের স্বার্থে সরকার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কাটাতে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান “আমরা ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথ খুঁজছি। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যকে একটি ‘জাতীয় সংকল্প’ হিসেবে অভিহিত করেন অর্থমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই লক্ষ্য অর্জনে কাঠামোগত সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির জটিলতা যাই হোক না কেন, অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে সরকার সাহসী পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

