জয়নাল আবেদীন্ঃ রংপুরে যারা ডিসি‘র দায়িত্ব পালন করতে আসেন তাদের আয়ুষ্কাল খুবই কম । তাদের অধিকাংশ বছর পার করতে পারেন না ফলে জেলা প্রশাসক হওয়া নিজেদের স্বপ্ন পুরোন হলেও জেলা বাসীদের যে স্বপ্ন ডিসিরা দেখান তা আর পূরোন করতে পারেন না । ইতিমধ্যে বেশ কজন জেলা প্রশাসক জেলার অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলেন কিন্তু তাদের জেলায় আয়ুষ্কাল কম হওয়ায় সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি ।
এদিকে রংপুরের নবাগত ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শ্যামপুর চিনিকল চালু করা, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ইপিজেড স্থাপন, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন, খেলাধুলার মানোন্নয়নে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা, শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল সংস্কার ও পুনঃখনন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে আলাদা লেন নির্ধারণ, রেলস্টেশনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হাড়িভাঙ্গা আম সংরক্ষণ ও আলু, মিষ্টি কুমড়া এবং আমের বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণসহ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।
এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে বর্তমান ডিসি‘র রংপুরে আয়ু কতদিন । কারণ পাচ আগষ্টের আগে পরে রংপুরে চারজন ডিসি বছরই পার করতে পারেননি । অথচ রংপুরের উন্নয়নে প্রত্যেকের পরিকল্পনা ছিলো বেশ উন্নত ।
রংপুরের একশত এগারো তম ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলেন প্রশাসন ক্যাডারের বিসিএস চব্বিশতম ব্যাচের ড, চিত্র লেখা নাজনীন তিনি দুই হাজার বাইশ সালের চার ডিসেম্বর যোগদান করে তেইশ সালের আঠারো জুলাই রংপুর ছাড়েন । এরপর আসেন সাতাশতম ব্যাচের মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান তিনি তেইশ সালের আঠারো জুলাই এসে চব্বিশ সালের বাইশ আগষ্ট বদলি হন । এরপর আসেন রবিউল ফয়সাল তিনি পচিশতম ব্যাচের, তার আয়ুষ্কাল ছিলো চব্বিশ সালের বারো সেপ্টেম্বর থেকে পচিশ সালের ষোল নভেম্বর ।এরপর আসেন বিসিএস সাতাশতম ব্যাচের মোহাম্মদ এনামুল আহসান তিনি পচিশ সালের আঠারো নভেম্বর থেকে চলতি মাস সাত এপ্রিল পর্যন্ত রংপুরে চাকরি করেন ।তিনি পাচ মাসও পূরোন করতে পারেননি ।অচথ এই অল্প সময়ে তিনি বিভিন্নস্তরে গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।
বর্তমানে যিনি দায়িত্ব গ্রহন করেছেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন তিনি আবার উনত্রিশতম ব্যাচের । এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে রংপুরে অতীতে অনেক জেলা প্রশাসকের হাত ধরে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে যারা কমপক্ষে দুটি বছর কাজ করতে পেরেছেন । কেউ কেউ তো দুবছর কেন চার বছর পর্যন্ত এ জেলায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন । যেমন তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, পচাশি থেকে উন নব্বই সাল আফজাল হোসেন বিরানব্বই থেকে পচানব্বই। মোয়াজ্জেম হোসেন, ছিয়ানব্বই থেকে দুইহাজার এক সাল পর্যন্ত খন্দকার আতিয়ার রহমান, দুইহাজার ছয় থেকে আট সাল পর্যন্ত ।বিএমএনামুল হক দুহাজার নয় থেকে বারো সাল ফরিদ আহমদ বারো থেকে পনের সাল পর্যন্ত এবং আসীব আহসান উনিশ থেকে বাইশ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ।

