অবরুদ্ধের হুঁশিয়ারি: হরমুজ প্রণালীতে ফের ইরানের ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণ’ জারি

0
অবরুদ্ধের হুঁশিয়ারি: হরমুজ প্রণালীতে ফের ইরানের 'কঠোর নিয়ন্ত্রণ' জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার চরম উত্তেজনায় রূপ নিল। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক নাটকীয় ঘোষণায় দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই সমুদ্রপথটি এখন থেকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর ‘পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পাহারায়’ থাকবে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি ইরানের বন্দরগুলো থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। ইরানি জাহাজের অবাধ যাতায়াত ও পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত এই দাবিগুলো পূরণ না হবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, মাত্র একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতেই ইরানি সামরিক বাহিনীর এই পাল্টাধর্মী ও কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে।

হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ‘ধমনী’। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়।

যদি ইরান বাস্তবে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সংকুচিত বা নিয়ন্ত্রণ করে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে।

বর্তমানে ওই এলাকায় ইরানের নৌ-সেনাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলসীমায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।