আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে বর্বর নির্যাতন: স্বামী পলাতক

0
আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে বর্বর নির্যাতন: স্বামী পলাতক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পাষণ্ড স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মীম আক্তার (২২) নামের ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়েছে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে রামধননগর গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে মীমের সাথে একই এলাকার দ্বিন ইসলাম দিনুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৫ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার অজুহাতে যৌতুকের জন্য মীমের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।

সম্প্রতি স্বামী দ্বিন ইসলাম দিনু ব্যবসার পুঁজি হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য মীমকে চাপ দেয়। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দিনু। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে শাশুড়ির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দিনু তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মীম আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যবসার জন্য ৫ লাখ টাকা আনতে না পারায় আমার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার গাল ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। এরপর আমার শাশুড়ির সাহায্যে সে জোরপূর্বক আমার মাথার চুল কেটে দেয়।”

নির্যাতনের খবর পেয়ে মীমের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মীমের ভাই জেহাদ ইসলাম জানান, বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং সে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী দ্বিন ইসলাম দিনু বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেছে। ভুক্তভোগীর মা পুতুল বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় রামধননগর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই বর্বরোচিত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।