আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগত এই জলপথে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির সশস্ত্র নৌযান ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। অবরুদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধার করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সাতটি ছোট আকারের নৌযানে সফল হামলা চালিয়েছে।” তবে তেহরান এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, মার্কিন প্রশাসনের এই দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং উস্কানিমূলক।
এদিকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের দুটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে এই প্রাণহানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রণালিতে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। আমিরাত দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।
চলমান অস্থিরতার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মায়াস্ক’। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মার্কিন সামরিক পাহারায় তাদের একটি পতাকাবাহী জাহাজ দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ একটি ব্যর্থ পরিকল্পনা। এই সংকট প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই।” অন্যদিকে, কাতার ও ইউরোপীয় দেশগুলো এই পাল্টাপাল্টি হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি (LNG) পরিবাহিত হয়। ফলে এই অস্থিতিশীলতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম লাফিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে।
যদি এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়তে পারে। যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

