মমতার ‘না’ সত্ত্বেও ভেঙে গেল মন্ত্রিসভা: পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের রাষ্ট্রপতি শাসন, শনিবার বিজেপির অভিষেক

0
মমতার ‘না’ সত্ত্বেও ভেঙে গেল মন্ত্রিসভা: পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের রাষ্ট্রপতি শাসন, শনিবার বিজেপির অভিষেক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবসান হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনের। দলীয় ভরাডুবি সত্ত্বেও পদত্যাগ না করার অনড় অবস্থানে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আজ বৃহস্পতিবার মমতার মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি।

সাধারণত নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন—এটাই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রীতি। তবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে হাঁটেননি। তার অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নয়, বরং ‘কারচুপির’ মাধ্যমে জয়ী হয়েছে।

কিন্তু ভারতীয় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভার আর কোনো আইনি বৈধতা থাকে না। মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। সেই নিয়ম মেনেই রাজ্যপাল আজ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন, যার ফলে টেকনিক্যালি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই।

নতুন সরকার গঠন ও শপথগ্রহণের মাঝে যে সময়ের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে রাজ্যে জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির শাসন। যেহেতু আগামী শনিবার বিজেপি সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে, তাই পরবর্তী দুই দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি কেন্দ্রের হাতে (রাজ্যপালের মাধ্যমে)।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইস্তফা না দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তিনি মনে করেন, জনমত বিজেপির পক্ষে ছিল না। তবে তার এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা হতে পারেনি।

অন্যদিকে, বিশাল জয়ের পর সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে বিজেপি। আগামী শনিবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক যবনিকা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংবিধানের প্রাধান্য যে কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে, পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনাপ্রবাহ সেটিই আবারও প্রমাণ করল।