অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন: ঢাকার কাছে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের তাগিদ নয়াদিল্লির

0
অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন: ঢাকার কাছে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের তাগিদ নয়াদিল্লির

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতে অবস্থানরত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ঢাকার সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ঝুলে থাকা কয়েক হাজার নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া, তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাব দেখা যাচ্ছে।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮৬২টি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বাংলাদেশের কাছে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু আবেদন গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।

জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সফল করতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে এই যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই মন্তব্য করেন জয়সওয়াল। মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ‘পুশ-ইন’ বা সীমান্ত দিয়ে লোক ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ এই বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতীয় মুখপাত্র ভারতের আইনি অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান ভারতে অবস্থানরত সকল অবৈধ বিদেশি নাগরিককে দেশের প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং একটি নিয়মিত প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া। ঢাকা যদি দ্রুত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে, তবেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

“আমরা চাই বাংলাদেশ যেন দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন করে, যাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কোনো জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়।” — রণধীর জয়সওয়াল, মুখপাত্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারত।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই বিশাল জট দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। একদিকে ভারত যখন তাদের অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দিতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রহণ করতে নারাজ। এই অচলাবস্থা নিরসনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।